Press "Enter" to skip to content

পাকিস্থানে এয়ার স্ট্রাইক করার আগেই মোদী সরকার করেছিল এই ৩ টি কূটনৈতিক স্ট্রাইক! যার জন্য সফল এয়ার স্ট্রাইক।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি ভোরে ভারতের বায়ুসেনা যা করে দিয়েছে তাতে  গতকালের দিন ভারতীয়দের কাছে একটা ঐতিহাসিক দিনে পরিণত হয়েছে। ভারতের ১২ টি মিরাজ বিমান LOC পার করে পাকিস্থানের ভেতর ৫০ কিমি ঢুকে স্ট্রাইক চালিয়েছিল যাতে পাকিস্থানের ৪০০ আতঙ্কবাদী শেষ হয়ে যায়। ভারতের বায়ুসেনার এই সফল এয়ার স্ট্রাইকের শুরু থেকে শেষ অবধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য জেগে ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে ভারতের বায়ুসেনা দ্বারা এই এয়ার স্ট্রাইক করার আগে দেশ পাকিস্থানের উপর তিনটি কূটনৈতিক স্ট্রাইক করে দিয়েছিল। এই তিনটি কূটনৈতিক স্ট্রাইক বায়ুসেনার এয়ার স্ট্রাইকের করার রাস্তা পরিস্কার করেছিল।

ভারত পাকিস্থানের উপর এয়ার স্ট্রাইক  করার আগে যে তিনটি কূটনৈতিক স্ট্রাইক করেছিল তা এখন আপনাদের জানাবো:
আসলে পাকিস্থানের আতঙ্কবাদী ক্যাম্পের উপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার আগেই ভারত সরকার এটা সুনিশ্চিত করেছিল যে বিশ্বের কোনো দেশ যেন পাকিস্থানের সমর্থনে দাঁড়াতে না পারে।

স্ট্রাইক ১: পাকিস্থানকে FATF এর গ্রে লিস্ট থেকে বাইরে না আসতে দেওয়ার মাস্টারস্ট্রোক ছিল ভারতের প্রথম কূটনৈতিক স্ট্রাইক। FATF এর গ্রে লিস্ট থেকে বাইরে আসার জন্য পাকিস্থান তার সমস্ত শক্তি লাগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ভারত পাকিস্থানের এই চেষ্টাকে বিফল করে দেয়। অবশ্য ভারত চেয়েছিল পাকিস্থানকে গ্রে লিস্ট থেকে ব্ল্যাক লিস্টে ফেলে দিতে। কিন্তু ব্ল্যাক লিস্টে না গেলেও পাকিস্থান গ্রে লিস্ট থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যার্থ হয়। ভারতের পাকিস্থানের বিরূদ্ধে যে ক্যাম্পাইনিং করেছিল তাতে সাফল্য পেয়েছিল এবং এক্ষেত্রে ফ্রান্স ভারতের ভরপুর সমর্থন করেছিল। এই কারনে পাকিস্থানকে গ্রে লিস্টে রেখে দেওয়া হয়েছিল। গ্রে লিস্টে থাকার অৰ্থ আতঙ্কবাদীকে সমর্থনকারী দেশ তথা আতঙ্কবাদকে ফান্ডিং করা দেশ। ফেব্রুয়ারি মাসে FATF পাকিস্থানের উপর নিন্দা করে পুলবামা ঘটনার উল্লেখ করেছিল যা ভারতের একটা বড় কুটনৈতিক জয় এবং পাকিস্থানের জন্য একটা বড় ঝটকা ছিল। পাকিস্থান FATF এর গ্রে লিস্টে থাকার জন্য পুরো বিশ্ব জানতো যে পাকিস্থান একটা আতঙ্কবাদী দেশ। এরজন্য যদি ভারত পাকিস্থানের আতঙ্কবাদী ক্যাম্পে স্ট্রাইক করে তাহলে সেটা সমস্থ দেশের কাছে সমর্থনযোগ্য।

স্ট্রাইক ২: ইউনাইটেট সিকিউরিটি নাশনের দ্বারা পুলবামা হামলার  নিন্দা করা। বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী বডি পুলাবামা হামলার তীব্র নিন্দা করেছিল পাকিস্থান পুরো বিশ্বে। নিজের নতুন ছবি তৈরি করার চেষ্টা করছিল কিন্তু ভারত পাকিস্থানের সেই মিথ্যা চেষ্টার উপর জল ঢেলে দেয়। ইউনাইটেট সিকিউরিটি নাশন বলে যে যারা এই ধরনের কুকৃত প্রয়াস করছে তাদেকে যেকোনো ভাবে ধরে শাস্তি দেওয়া উচিত। ইউনাইটেট সিকিউরিটি নাশনে তাদের প্রেস রিলিজতে পাকিস্থানের ও জঙ্গি সংগঠন জইস-মহম্মদের নাম উল্লেখ করে। পাকিস্থান চীনের সাথে পরিকল্পনা করেছিল যাতে কমিটি এমন স্টেটম্যান প্রকাশ না করে, কিন্তু এখানে ভারতের কূটনীতির সামনে মার খায় পাকিস্থান ও চীন।

স্ট্রাইক ৩: জাপানের দ্বারা পাকিস্থানের বিদেশমন্ত্রীর যাত্রা বাতিল করা ছিল ভারতের জন্য আরো একটা কূটনীতিক স্ট্রাইক। পুলবামা হামলার পর পাকিস্থানের বিদেশমন্ত্রী খুরেশির জাপান  যাত্রা করার কথা ছিল। পাকিস্থানের লক্ষ ছিল জাপান গিয়ে সেখান থেকে কিছু ইনভেস্টমেন্ট আনা। কিন্তু পুলবামা হামলার উপর লক্ষ করে জাপান পাকিস্থানের বিদেশমন্ত্রীর এই যাত্রা বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানাই। কোনো দেশের বিদেশমন্ত্রীর যাত্রা এইভাবে এটাকে দেওয়া মানে আন্তর্জাতিক স্তরে তার অপমান করা। আর পুলবামা হামলার পর জাপান পাকিস্থানের বিদেশমন্ত্রীর এইভাবেই অপমান করে। জাপান এই পদক্ষেপ নিয়েছিল ভারতের কূটনীতির জন্য।

পুলবামা হামলার পর ভারত সরকারের উদ্যেশে ছিল পাকিস্থানকে সম্পুর্নরূপে বিশ্বের দেশগুলি থেকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া এবং তারপর স্ট্রাইক করা। যাতে কোনো দেশ পাকিস্থানের পাশে না দাঁড়ায় এবং একইসাথে ভারতের স্ট্রাইক নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে। এক্ষেত্রে ভারত সম্পুর্ন সফল হয়েছে। ভারত স্ট্রাইক করার পর বিশ্বের কোনো দেশ পাকিস্থানের হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, এমনকি পাকিস্থানের বন্ধু চীনও পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনি। চাণক্য নীতিতে বলা হয় যে শত্রুকে আক্রমন করার আগে তাকে আর্থিক ও মানসিকভাবে দুর্বল করে দাও। এয়ার স্ট্রাইক করার আগে ভারত সেটাই করেছে। এয়ার স্ট্রাইক করার আগে মোদী সরকার পাকিস্থানের বিরূদ্ধে কূটনৈতিক স্ট্রাইক ও আর্থিক যুদ্ধ করেছিল যার দরুন এয়ার স্ট্রাইকের রাস্তা প্রশস্ত হয়েছিল।

8 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.