Press "Enter" to skip to content

‘জয় শ্রী রাম” বলায় তৃণমূল কর্মীকে ব্যাপক মারধর করল তৃণমূল কর্মীরা

এতদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ‘জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দিয়ে তৃণমূলের কর্মীদের হাতে মার খাচ্ছিল বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। কিন্তু এবার তৃণমূলের কর্মীদের হাতে আরেক তৃণমূল কর্মী মার খেলেন শুধুমাত্র জয় শ্রী রাম বলার জন্য। জয় শ্রী রাম ধ্বনি বারবার উত্তাল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। জয় শ্রী রাম ধ্বনি দেওয়ার জন্য তৃণমূল কর্মীদের হাতে খুনও হতে হয়েছে কর্মীদের। কিন্তু এবারের ঘটনা একেবারে বিরল। এবার তৃণমূল কর্মীদের হাতে মারধর খেলেন আরেক তৃণমূল কর্মী। তাঁর অপরাধ ছিল, সে তৃণমূল কর্মী হয়ে অন্যান্য তৃণমূল কর্মীদের সামনে জয় শ্রী রাম ধ্বনি দিয়েছিল।

জয় শ্রী রাম ধ্বনি নিয়ে বিতর্কের প্রথম সুত্রপাত হয় লোকসভা ভোটের সময় মেদিনীপুর জেলাতে। ফেণী ঝড়ের সাথে মোকাবিলা করে মুখ্যমন্ত্রী যখন খড়গপুর থেকে লোকসভা প্রচারের জন্য চন্দ্রকোনার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় দেখে ‘জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দেয়। মুখ্যমন্ত্রী তখনই গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের তাড়া করেন। এরপর তাঁদের জেল বন্দীও করা হয়। বিজেপি গণতন্ত্রের খুন বলে আখ্যা দেয় এই ঘটনাকে।

মমতা ব্যানার্জী - Mamata Banerjee

এরপর লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা হলে, অশান্ত ভাটপাড়ার পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেখানেও ওনাকে দেখে কয়েকজন ‘জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দেয়। তখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের বিরুদ্ধে তেড়ে যান, এবং বলেন আমাকে গালাগালি দিচ্ছে। পরের দিন এই ঘটনায় ১০ জনকে গেফতারও করা হয়। এরপর ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং অভিনব পন্থা অবলম্বন করে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানায় অজস্র জয় শ্রী রাম লেখা পোস্ট কার্ড পাঠান।

এই দুটি ঘটনার মধ্যে এবং পরে এই রাজ্যে শুধুমাত্র জয় শ্রী রাম বলার জন্য অনেক বিজেপি কর্মীকে খুন হতে হয়। আর এবার বসিরহাটের এক তৃণমূল কর্মী তাঁর সতীর্থদের সামনে জয় শ্রী রাম ধ্বনি দেয়। এবং তৃণমূল কর্মীরা রেগে লাল হয়ে রণজিৎ মণ্ডল নামে ওই তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ পড়াচ্ছেন, আরেকদিকে শুধু মাত্র জয় শ্রী রাম বলার জন্য রাজ্যের মানুষ মার খেয়ে চলেছে।