Press "Enter" to skip to content

NRC ইস্যু নিয়ে আসাম প্রবেশ করতেই কপালে মার জুটলো তৃণমূল প্রতিনিধি দলের।

একদিকে কেন্দ্র যখন আসামের পরিস্থিতি শান্ত রাখাই সক্ষম হয়েছে তখন তৃণমূল পরিবেশ অশান্ত করতে পৌঁছে গেছে আসাম। তৃণমূলের ৮ জনের একটি প্রতিনিধি দল অসমে যান সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবার জন্য। কিন্তু তৃণমূল প্রতিনিধি দল অসমের শিলচর বিমানবন্দরে নামার সাথে সাথেই তাদেরকে আটকে দিল অসম পুলিশ। তারপরই পুলিশের সাথে বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পরেন তারা। শেষে কোনো আসা দেখতে না পেয়ে তারা বিমানবন্দেরের সামনে বসেই অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। অসম পুলিসের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল অভিযোগ করেন যে তাদের সাথে পুলিশ অভাব্য আচরণ করছেন। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদিস্তা অভিযোগ করেন যে এখানে আমাদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেন মনে হচ্ছে অসম সরকার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছেন। তৃনমূল সাংসদরা অভিযোগ করেন যে দেশের সাংসদ হিসাবে তাদের যে কোনো জায়গাতে যাবার অধিকার আছে কিন্তু সোনোওয়াল পুলিস তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছে।

তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর দাবি করেন যে, আরও ৭১ জন যাত্রী আমাদের সাথে একই প্লেনে এসেছিল তাদের কে ছেড়ে দিয়েছে অসম পুলিশ, কিন্তু প্রশাসনের আধিকারিকরা আমাদেরকে কে আটক করে রেখেছে। আমাদের সমস্ত জিনিসপত্র সব কিছু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে শুধুমাত্র আমাদের জন্যই কি এখানে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। তিনি বলেন যে আমরা জানতাম যে এখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে তাই আমরা একে একে তাদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা ১৪৪ ধারার কথা বলে আমাদের জানিয়ে দেন যে কিছু করার নেই উপর থেকে নির্দেশ আছে। সেই সাথে তিনি পুলিশ এর বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ তুলেছেন।

উল্লেখ্য, NRC বিতর্কের ইস্যু নিয়ে তৃনমূলের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার অসম যাবার কথা ছিল। সেই দলে রয়েছেন ১ জন মন্ত্রী, ৬ জন সাংসদ ও ১ জন বিধায়ক। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিম সেই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবার জন্য রয়েছেন। তৃনমূল সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে সেই ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের কাছাড় জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে। আরও জানা যায় যে তারা সেখানে একটি সভা করতে চেয়েছেন কিন্তু সেই সভা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে কারন এখন সেই জেলাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

অসম প্রশাসনসূত্রে স্পস্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই রকম কোনো সভা করার খবর তাদের কাছে নেই। তবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির কাজে বাধা পায় এমন কিছু করার কথা যদি কেউ ভেবে থাকে তাহলে সে ভুল ভাবছে এই রকম কোনো কাজ প্রশাসন করতে দেবে না। কেউ যদি ১৪৪ ধারা কে অমান্য করে কিছু করতে চাই তাহলে প্রশাসন তাকে বাঁধা দেবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন প্রশাসন যখন পরিস্থিতি শান্ত রেখেছে তখন তৃণমূলের ওখানে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না।

#অগ্নিপুত্র