Press "Enter" to skip to content

ত্রিপুরায় হিন্দুধর্ম মতে পশুবলির উপর জারি হলো নিষেধাজ্ঞা! অন্য ধর্মের পশুহত্যা কবে হবে বন্ধ?

ভারতের সনাতন হিন্দু ধর্মের সবথেকে বড় ক্ষতি যদি কেউ করে থাকে তাহলে তারা হলো বিদেশী আক্রমণকারী ও কালচক্রের সাথে ধর্মের মধ্যে ঢুকে যাওয়া কু-সংস্কার। ভারতে যত বিদেশীরা আক্রমন করেছিল তারা এটা বুঝতে পেরেছিল যে ভারতে শাসন করতে হলে ভারতের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে উপড়ে ফেলতে হবে। একই সাথে ভারতের যে ধর্ম রয়েছে সেটার মধ্যে বিকৃত প্রবেশ করিয়ে সনাতন ধর্মের মধ্যে ফাটল ধরতে হবে। ইংরেজরা যখন ভারতে শাসন করতে শুরু করলো তখন তারা জানতে পারলো যে ভারতে সংস্কৃত ভাষার এক বড়ো প্রভাব আছে এবং ভারতীয়রা মনুস্মৃতিকে তাদের ন্যায়-বিচার ইত্যাদির জন্য ব্যাবহার করে। এরপর ইংরেজরা জার্মানির এক সংস্কৃতি বিদ্যবানকে মনুস্মৃতি পড়ে তার ইংরেজি অনুবাদ করতে বলে। ওই জার্মান বিদ্বান ব্যক্তির নাম ছিল ম্যাক্সমুলার।

ঋষি মনু

ইংরাজিতে মনুস্মৃতি পড়ার পর ইংরেজরা হতবাক হয়ে যায়। তারা ম্যাক্সমুলারকে বলে তাদের ইচ্ছামত করে মনুস্মৃতির একটা কপি তৈরি করতে। যেখানে মাংস খাওয়া ইত্যাদির মতো অনেক বানানো শ্লোক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এখন ভারতে দুই ধরনের মনুস্মৃতিই পাওয়া যায়। এই কারণে ভারতে অনেকে দাবি করে যে শাস্ত্রে মাংস খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আসলে এটা বিকৃত হওয়া মনুস্মৃতি পড়ার ফল। ভারতের ভোজন মন্ত্র পড়লেও এটা বোঝা যায় যে কোনোভাবেই শাস্ত্রে মাংস ইত্যাদি খাওয়াকে ন্যায় সঙ্গত মনে করা হয় না। ইংরেজরা চেয়েছিল ভারতীয়রা যেন নিজেরাই নিজেদের পিছিয়ে পড়া, মূর্খ, গোলাম মনে করে। কারণ কাউকে দাস বানিয়ে রাখতে হলে তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া অত্যন্ত দরকার হয়। সেটাই ইংরেজরা করতো। যদিও লজ্জার বিষয় এখনও ভারতে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন রয়েছে। ইংরেজদের আরো একটা বড়ো ষড়যন্ত্র ছিল নিয়ে মিথ্যা রোটানো।

সতীদাহ নাকি ইংরেজদের ষড়যন্ত্র?

আসলে ভারতে সতীদাহ বলে কোনো প্রথা ছিল না, যেটা ছিল সেটা হলো সতী প্রথা। কিন্তু ভারতীয়দের শেখানো হয় যে তাদের পুর্বপুরুষ এতটাই মূর্খ ছিল যে বিধবা নারীদের পুড়িয়ে দিত। যদিও আসলে এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারতে সতী প্রথা ছিল এবং এখনও কোল ভিল মুন্ডাদের মধ্যে এই প্রথা রয়েছে। আধুনিক ইতিহাসবিদরাও এটা স্বীকার করেছেন। তবে এখন ভারতের জনগণ আবার জাগতে শুরু হয়েছে এবং ধর্মের প্রতিষ্ঠায় নেমে পড়েছে। ত্রিপুরায় একটা বড়ো পরিবর্তন এর খবর সামনে আসছে। জানিয়েছে যে এবার ত্রিপুরার কোনো মন্দিরে বলি দেওয়া যাবে না।

রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত জেলা দায়রা জজ সুভাষ ভট্টাচার্য আদালতের কাছে এই ব্যাপারে আওয়াজ তুলেছিলেন। সুভাষ বাবু আদালতের কাছে ধর্মগ্রন্থগুলিকে প্রমান সহ উপস্থাপন করে এটা প্রমান করেন যে পশুবলি হিন্দু ধর্মের অঙ্গ নয়। আদালতের সিধান্ত নিয়ে নানা বিতর্কও সামনে এসেছে। অনেক বলেছেন যদি হিন্দু ধর্মে পশুবলি বন্ধ হয় তবে অন্য ধর্মে পশু হত্যা কবে বন্ধ হবে। কারণ অনেক ধর্মের লোকজন ধর্মের নামে এমন পশুকে হত্যা করে যারা দ্বারা হিন্দু সমাজের আস্থা আহত হয়। তবে প্রশ্নঃ যাই উঠুক ধর্মের নামে পশু বলিকে বন্ধ করে ত্রিপুরা পুরো দেশ ও হিন্দু সমাজকে ধর্ম স্থাপনার বড়ো প্রেরণা দিয়েছে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।