Press "Enter" to skip to content

এবার এই জেলাতে জয়লাভ করেও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দান করলেন ভাইস চেয়ারম্যান।

রাজ্য রাজনীতিতে এখন ভাঙা গড়ার খেলা চলছে। নিজের পুরোনো শিবির বদল করে একজন কাউন্সিলর যোগ দিয়েছিলেন তৃনমূলে। ফলস্বরূপ তৃনমূল দখল করে নিয়েছিল রামজীবনপুর পৌরসভা। এবার সেই কাউন্সিলর সব হিসাব বদলে দিয়ে পুনরাই ফিরে এলেন তার পুরোনো শিবিরে। এবার শাসক দল সঙ্কটে পরে গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুর পুরসভায়। তার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি।শিউলি সিং নামে এই কাউন্সিলর এবার রামজীবনপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপির সমর্থনে লড়াই করেছিলেন। তিনি নির্দল প্রাথী হয়ে লড়াই করেন এবং ভোটে জিতেন। রামজীবনপুরের ভোটের ফল প্রকাশ হবার পর দেখা যায়, পুরসভায় মোট ১১ টি আসনের মধ্যে লড়াই হয়। সেখানে দেখা যায় মাত্র ৫ টি আসনে জিতেছে শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছে ২ টি আসন এবং নির্দল প্রাথী হয়ে লড়াই করা শিউলি সিং এর দখলে ৪ টি আসন।

এরপর বোর্ড গঠন করার জন্য শিউলি সিং কে নিজেদের দিকে টেনে নেয় শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস। এরপরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস তারা বোর্ডও গঠন করে নেয়। কিন্তু বুধবারই সব হিসাব পালটে গেল।
শিউলিদেবী তার ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন। তিনি ইস্তফা দিয়েই শাসক দলের বিরুদ্ধে করলেন একগুচ্ছ অভিযোগ। তিনি সরাসরি চুপিসারে কিছু করলেন না, তিনি বিজেপি কার্য্যালয় থেকে মিছিল করে গিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে এলেন তৃনমূলের অফিসে। এখন রামজীবনপুরের সমীকরনে বিরোধীরা এগিয়ে গেল। সমীকরণ এই মুহুতে এই পরিস্থিতিতে রয়েছে শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস ৫ টি আসন ও বিরোধীরা ৬ টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

তাহলে এখন কী হবে এই পুরসভায়?

অজিত মাইতি যিনি শাসক দলের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি তিনি বলেন যে, শিউলি সিং বিজেপিরই লোক ছিল। কিছু সময়ের জন্য আমাদের দলে এসেছিল, এখন উনি চলে যাওযায় আমাদের কিছু ক্ষতি হবে না। কিন্তু পুরোভোট ধরে রাখার ব্যাপারে তিনি অবশ্য তেমন কিছু বলতে চান নি। তিনি বলেন যে দেখা যাক কি হয়। বিজেপি শিবির অবশ্য এর ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম সহ বেশ কিছু জেলাতে ইতিমধ্যে শাসক দলকে ধাক্কা খেতে হয়েছে, তার বোর্ড গঠন করতে গিয়ে বার বার পিছিয়ে পড়েছে এই সকল জেলা গুলিতে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, রামজীবনপুরের ঘটনা শাসক দল কে আরও চাপে ফেলে দেবে। যদি শাসক দলের গড়া বোর্ড এখানে ভেঙে যায় তাহলে এই জেলায় বেশ চাপে পরে যাবেন শাসক দল। আর এর প্রভাব লোকসভা ভোটে বেশ ভালো ভাবেই পড়বে বলেও ধারনা করা হচ্ছে।
#অগ্নিপুত্র