Press "Enter" to skip to content

নিজের কাছে থাকা শেষ ১০০০ টাকা স্কুল ছাত্রছাত্রীদের দান করে অটল বিহারী বাজপেয়ী যা বলেছিলেন তা আপনাকেও ভাবুক করবে।

পূর্ব প্রধানমন্ত্রী সরি সমস্ত মহান নেতাদের মধ্যে ছিলেন যাদের ভক্ত বিরোধীরাও হতেন। তার ভাষণ শৈলী ও ব্যাঙ্গাত্মক কলার দ্বারা বিরোধীদের হাসতে বাধ্য করতেন। আসলে তার নরম বক্তব্যের মাধ্যমে এমনভাবে বিরোধীদের উপর আক্রমণ করতেন যে বিরোধীরা অটলজির বক্তব্য খুব মনযোগ সহকারে শুনতেন।
৯৩ বছরের বাজপেয়ী বহু বছর ধরে রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার পরেও বাজপেয়ীজির চর্চা মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় হতো। গতকাল অতল বিহারী বাজপেয়ীজি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন যার জন্য পুরো দেশ শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। মিডিয়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্রই এখন বাজপেয়ীজি ছেয়ে রয়েছেন।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অটলজির পুরানো একটা ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ছে যা খুবই আকর্ষিত করছে মানুষকে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অটলজি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সম্বোধন করে বলছেন যে আমি তোমাদের স্কুলকে ১০০০ টাকা দান করছি। এখন আমার কাছে টাকা নেই তাই আমি এর থেকে বেশি দান করতে পারছি না। অটল বিহারী বাজপেয়ী এর এই ভিডিওটি খুবই পুরানো। ভিডিওতে অটল বিহারী বাজপেয়ীজি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দ জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে হার জিত হয়েই থাকে, কিন্তু আমি নির্বাচনের হার নিয়ে বেশি চিন্তা করি না।

অটলজি হেসে বলছেন নির্বাচনে হারার পর আমি কখনো কাঁদিনা যে হায় আমি হেরে গেলাম কেন। বাচ্চাদের অটল বিহারী বাজপেয়ীজি বলেছেন, তোমরা আমাকে মামা মনে করেছো। তোমাদের এই মামার রোজগার সম্প্রতি হারিয়ে গেছে। এই জন্যে আমি তোমাদের স্কুলকে ১০০০ টাকার থেকে বেশি সাহায্য করতে পারলাম না। এটা একটা দেখার মতো বিষয় যে কিরকম সৎভাবে ভারতের পূর্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের বাধ্যতাকে বাচ্চাদের সামনে প্রকাশ করছেন।

 

আসলে অটল বিহারী বাজপেয়ী একজন স্পষ্টবাদী, রাষ্ট্রবাদী, নির্ভীক ও সৎ ব্যাক্তিত্বের মানুষ ছিলেন। অটল বিহারী বাজপেয়ী সর্বদা দেশ চালানোর জন্য রাজধর্ম পালনের কথা বলতেন। অর্থাৎ জাতি ধর্ম নির্বিশেষ সকলেই শাসকের কাছে সমান। আর এই শিক্ষা ও চিন্তাধারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দিয়েছিলেন শ্রদ্ধেয় অটলজি। দেশের মাথা উঁচু রেখে , সবাইকে সাথে নিয়ে শত্রুদের সাথে সঠিক শিক্ষা দিয়ে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ঘৃণা না করে তীব্র বিরোধ করার শিক্ষা অটলজি থেকে ভালো কেউ আর জানতেন না।