Press "Enter" to skip to content

UAE কেরালা বন্যায় 700 কোটি দিতে চাইলে, মোদী সরকার মানা করে দেয়,এর পেছনে কারণ জানলে আপনিও সমর্থন করবেন !

সম্প্রতি কেরালার বন্যা নিয়ে দেশে হাহাকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসে কেরল এমন বিধ্বংসী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়নি। কেরলের বন্যায় প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং ৩৫০ থেকে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সময় দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে কেরলে সাহায্য পৌঁছাচ্ছে। মোদী সরকারের তরফ থেকে কেরালায় নৌ সেনা(৪৬ টি টিম) থেকে বায়ু সেনা(১৬ টি টিম) ও স্থল সেনাকে(১৮টি টিম) লাগানো হয়েছে। আরএসএস( এর তরফ থেকে ২০ হাজারের বেশি সয়ংসেবককে উদ্ধার ও সেবার কাজে নেমে পড়েছে। এই বিপদের দিনে দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্নভাবে সাহায্যে প্রস্তাব লাগাতার আসছে। UAE(সৌদি আরব আমিরাত) এর তরফ থেকে ৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব(এব্যাপারে আমাদের সন্দেহ আছে) এসেছিল বলে দাবি দালাল মিডিয়ার, এছাড়াও মালদ্বীপ, কাতার,মোর্গেস কোটি কোটি টাকা সাহায্যের প্রস্তাব রেখেছিল।যা ভারত সরকার প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। আর এর পেছনের কারণ না জেনেই কিছু কট্টরপন্থীরা ও বিরোধীরা মোদী সরকারের বিরোধিতায় নেমে পড়েছে।

আপনাদের জানিয়ে দি ভারতের প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ UAE তে কাজ করেন যার মধ্যে ৮০% কেরলের বাসিন্দা। এই বিপর্যয়ের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমেই ১০০ কোটি টাকার ঘোষণা করেছিলেন। তারপরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিপর্যয়ের সাথে লড়াই করার জন্য ৫০০ কোটি টাকা ঘোষণা করেন। শুধু এই নয়, প্রধানমন্ত্রী রাহাত কোষ থেকে দুর্যোগে মৃতদের পরিবারকে ২-২ লক্ষ করেছেন এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এমনকি মোদী সরকার ডিজাস্টার রিজার্ভ ফান্ড থেকে আরো ৩২০ কোটি টাকা ঘোষণা করেছে। যাদের বাড়ি এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের জন্য ফ্রী হাউসিং এর ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্তরকমের স্কিম এর ঘোষণা, যতগুলি জাতীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেইসমস্ত সড়কের দ্রুতপূর্ননির্মাণ ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রের তফরে উদ্ধার কাজে নামানো হয়েছে ১ লক্ষ সেনা। উদ্ধারের জন্য মোদী সরকার ৬৭ টি হেলিকপ্টার, ২৪ টি এয়ার ক্র্যাফট,৫৪৮ টি মোটরবোটস, ৬৯০০ টি লাইফ জাকেটস,১৬৭ টি ইনফ্লাটেবলে টাওয়ার লাইট,২১০০ টি রেইন কোর্ট, ১৩০০ টি গামবোটস, ১৫৩ টি চেইনস্ব এর ব্যবস্থা পরিপোক্ত করেছে। এছাড়াও ৩০০,০০০ খাবারের প্যাকেট, ৬০০,০০০ মিলিয়ন টন দুধ, ১,৪০০,০০০ লিটার পানীয় জল, ১০০,০০ লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন ১৫০ পটাবল ওয়াটার পিউরিফিকেশন কিটস। এছাড়াও দেশের প্রত্যেক রাজ্য তাদের সরকারের তরফ থেকে কোটি টাকা সাহায্যের ঘোষণা করেছে।আপনাদের জানিয়ে দি ভারতের সবথেকে ভালো বন্ধু ইজরায়েল সাহায্যের জন্য টিম পাঠিয়েছিল যার মনখুলে স্বাগত জানিয়েছে মোদী সরকার।

এখন আর কিছু তথ্য আপনাদের জানিয়ে দি যা দালাল মিডিয়া ও লজ্জাহীন বামপন্থী ও কংগ্রেসিরা অপনাদের থেকে লুকিয়ে রেখেছে। ২০০৪ সালের Adequate Ability এর ভারতের নিয়ম অনুযায়ী ভারত কোনো বিদেশি সাহায্য গ্রহন করবে না কারণ ভারত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে। এটা দর্শন করাই যে ভারত একটা স্বাবলম্বী স্বভিমান দেশ আর এই কারণে ২০০৪ সালে সুনামিতে ভারতের যা ক্ষতি হয়েছিল তার সাহায্যের জন্য বিদেশ থেকে আসা আর্থিক সাহায্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ফিরিয়ে দিয়েছিল। ২০০৪ সালের সুনামির যে ক্ষতি হয়েছিল তা কেরালার বন্যা থেকে বহুগুন বেশি তা সত্ত্বেও ভারত বৈদেশিক আর্থিক সাহায্য নেয়নি। কারণ স্পষ্ট, আর্থিক সাহায্য দিয়ে পরে পরোক্ষভাবে ভারতেই ক্ষতি করবে অন্য দেশগুলি। যেহেতু ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে সেই কারণে যদি নিজেদের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমরা বাইরের সাহায্য নি তাহলে ভারতের মান অনেকটা কমে যাবে যার জন্য বিদেশি লগ্নি ভারতে আসাও কমে যাবে। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে ক্ষতি হবে ভারতেরই। আসলে বিষয়টি এই যে কোনো দেশ নিজের স্বার্থ ছাড়া কখনোই অন্যদেশের সাহায্য করবে না, প্রত্যেক সাহায্যের পেছনে আন্তর্জাতিক কারণ, চুক্তি ও স্বার্থ থাকে।

শুধু এই নয় বামপন্থী, কংগ্রেস ও কিছু দালাল মিডিয়া দাবি করেছে যে বিদেশ থেকে ডোনেশন আশা সত্ত্বেও ভারত নিচ্ছে না। এটা নিলে ভারতের কি ক্ষতি হবে সেটা জানানো তো দূর আপনাদের তারা এটাও জানাচ্ছে না যে ডোনেশন আর লোনের মধ্যে পার্থক্য কোথায়। আসলে কিছু বিশেষ দেশ ভারতের প্রাকৃতি দুর্যোগে টাকা দিয়ে নিজেদের ব্যাবসা খুলতে চাইছে। সধারণ মানুষ এই বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদের চোখ থেকে এটা কখনোই এড়িয়ে যেতে পারে না। জানলে অবাক হবেন ২০১৩ সালে কংগ্রেস আমলে যখন উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যা(কেরলের বন্যার থেকে ২০ গুন বেশি ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল) এসেছিল যাতে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৪৮ জনের, তখন কেন্দ্রে ও রাজ্যে দুই জায়গায় ছিল কংগ্রেস। সেই সময় কেন্দ্রে থাকা কংগ্রেস সরকার মাত্র ১০০০ কোটি টাকা, ১০ টি হেলিকপ্টার, ৩৬ টি এয়ারক্রাফট ও ৩,৩৬,৯৩০ কেজি রিলিফ ম্যাটেরিয়াল ও সামগ্রী নামিয়ে হাত গুটিয়ে নিয়েছিল।

অন্যদিকে মোদী সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে কিভাবে লড়াই করতে হয় তার দারুন দৃষ্টান পেশ করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর পরেও দালাল মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারে ব্যাস্ত রয়েছে। আজ যখন দেশের প্রত্যেক রাজ্য ও কেন্দ্র হাতে হাত মিলিয়ে কেরলকে উদ্ধার করার জন্য লাগাতার সাহায্য পাঠাচ্ছে তখন এটা স্পষ্ট যে দেশ মোদী সরকারের আমলে এই রকম বিপর্যযের সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত এবং সক্ষম। আর এই অবস্থায় অন্য কোনো দেশ থেকে সাহায্য নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আজ দেশবাসীর গর্ব করা উচিত যে তারা কেন্দ্রে এমন সরকারকে নিয়ে এসেছে যারা যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করার জন্য আগের সরকারের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমশীল।

 

Source-
eonomicestimes.indiatimes.com
Hindustantimes.com
insistposthindi.com