Press "Enter" to skip to content

প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে বৃষ্টি হওয়ার পেছনে এই কারণ প্রত্যেক হিন্দুর অবশ্যই জানা উচিত।

কৃষ্ণের জন্ম কোনো সামান্য ঘটনা নয়, বরং একটা ঐতিহাসিক, আধ্যাতিক ও একটা ধার্মিক ঘটনা। হিন্দু গ্রন্থ অনুযায়ী মাখন চোর(ভালোবেসে এই নাম নেওয়া হয়), তিনি ছিলেন লম্বা, শ্যামলা বর্ন বিশিষ্ট ও প্রচন্ড চতুর প্রকৃতির অদ্বিতীয় গুণসম্পন্ন দাপর যুগের মহানায়ক। ভগবান কৃষ্ণের জন্িন গভীর ভাবাবেগ, উৎসাহ ও শ্রদ্ধার সাথে প্রত্যেক বছর প্রত্যেক হিন্দুর বাড়িতে পালন করা হয়। ভগবান কৃষ্ণের জন্মদিন সম্পর্কিত একটা ঘটনা খুব চর্চায় থাকে তা হলো প্রত্যেক বছর জমাষ্টমীতে বৃষ্টি হওয়ার কারণ কি? ভগবান বিষ্ণুর অবতার শ্রী কৃষ্ণ অশুভ শক্তির বিনাশ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যিনি অধর্মকে ধ্বংস করে ের রক্ষার পতিক্ষা নিয়েছিলেন। মথুরার রাজা কংস ছিলেন একজন পাপী ও অধর্মী। কংসের বোনের বিয়ের সময় আকাশবাণী(ঐশ্বরিক বাণী) থেকে ঘোষণা হয়েছিল কংসের দিন শেষ হয়ে এসেছে এবং দেবকির(কংসের বোন) অষ্টম সন্তান কংসের বিনাশ করে ধর্মের প্রতিষ্ঠা করবেন।

যখন দেবকি তার অষ্টম সন্তানের জন্ম দেবেন তার আগে ভীত কংস দেবকি ও তার স্বামীকে বন্ধী বানিয়ে নিয়েছিল যাতে সে অষ্টম পুত্রকে হত্যা করতে পারে।ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টম দিনে মাতা দেবকির প্রসব বেদনা উঠে এবং কৃষ্ণের জন্ম দেন। ভাগ্যক্রমে বন্দিশালার গার্ডরা ঘুমিয়ে পড়েছিল এবং মা দেবকির স্বামীর হাতের শিকল খুলে গেছিলো আপনাআপনি। সে সময় ঐশ্বরিক আওয়াজ বাসুদেবকে বলে, নবজাতকে নন্দ গ্রাম নিয়ে যেতে এবং সেখানে নন্দ বাবু ও যশোদার কন্যার সাথে শিশুর পরিবর্তন করতে। এই কন্যা পরবর্তীতে শক্তির রূপ নিয়েছিল যাকে কংস হত্যা করতে ব্যার্থ হয়েছিল।

এরপর ঐশ্বরিক বার্তার অনুসরণ করে বাসুদেব যখন কৃষ্ণকে নিয়ে ঝুড়িতে নিয়ে মাথায় করে যমুনা পর হচ্ছিলেন। তখন প্রচন্ড বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছিল। সেই সময় পাঁচ মাথা বিশিষ্ট শেষনাগ(সরীসৃপদের রাজা) নিজের মাথা ছড়িয়ে দিয়ে ভগবান কৃষ্ণকে বৃষ্টি থেকে আড়াল করেছিল। এই ঘটনাকে জমাষ্টমীর দিনে বৃষ্টি হওয়ার সাথে সম্পর্কিত বলা হয়।

এছাড়াও ভাগবত গীতা ভগবান কৃষ্ণের সম্পর্কে একটা ঘটনা জানায়। বৃন্দাবনে প্রকান্ড ৭ দিনের বৃষ্টির ও বজ্রপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি হয়েছিল। সেই সময় ভগবান কৃষ্ণ ভয়ভীত ও অসহায় বৃন্দাবনবাসী ও বাকি সমস্থ প্রাণীদের রক্ষার জন্য পুরো গোবর্ধন পর্বত তুলে নিয়েছিলেন। ৭ দিনের প্রকান্ড বিপর্যয় থেকে বৃন্দাবনবাসীকে রক্ষার জন্য গোবর্ধন পর্বতকে তুলে ছাতার মতো রেখেছিলেন।