Press "Enter" to skip to content

অমিত শাহ’র সাথে সহমত বিখ্যাত ঐতিহাসিক উইলিয়াম ডালরিম্পল, বললেন আবারও লেখা উচিত ইতিহাস

বিখ্যাত ঐতিহাসিক আর লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পল (William Dalrymple) নিজের নতুন বই ‘দ্য অ্যানার্কি”  (The Anarchy) তে বিশ্বের প্রথম বহুরাষ্ট্রীয় কোম্পানি ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি” (East India Company) উত্থান নিয়ে লেখেন। ভারতে মুঘল শাসনের শেষ সময়ে হওয়া রাজনৈতিক টানাপড়েন এর পর ভারতে আসা ব্রিটিশ কোম্পানিকে নিয়ে লেখা ৫৭৬ পাতার এই বই বেস্ট সেলার হয়েছে। এই পুস্তকের লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়ে গেছে। টাটা স্টিল কোলকাতা লিট্রেটি মিট-এ নিজের লেখা বই লঞ্চ করার জন্য কলকাতায় আসা উইলিয়াম ডালরিম্পল বলেন, আমি এই বইয়ের বেস্ট সেলার হওয়া নিয়ে কখনো চিন্তা করিনি। ছয় বছর আগে আমি কোন পরিকল্পনা ছাড়াই এই বই লেখা শুরু করি।

‘দ্য অ্যানার্কি”  (The Anarchy) ব্রিটেন থেকে ভারতে ব্যাবসা করতে আসা এক কোম্পানির মুঘল শাসকের থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার গল্প। উইলিয়াম জানায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটেনের ছিল, কিন্তু তাঁরা ব্রিটিশ ছিলনা। ব্রিটেনের সরকার প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে এরপর গোটা ভারতে শাসন করে। ভারতে যখন এই ব্রিটিশ কোম্পানি শাসন করছিল, তখন গোটা বিশ্বের জিডিপিতে ব্রিটেনের যোগদান মাত্র ৩ শতাংশ ছিল, আর মুঘল শাসকের অংশীদারি ৩৭ শতাংশ ছিল।

উনি বলেন, সাফ কথায় বলতে গেলে, বিশ্বের শিল্প ক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ ভারতের হাতে ছিল। মুঘল শাসন চলাকালীন ১৭৫৬ থেকে ১৮০৩ এর মধ্যে মাত্র ৫০ বছরে ভারত শিল্প উৎপাদনের মামলায় চীনকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল।

ব্রিটিশ কোম্পানির পশ্চিমবঙ্গে থাকা ২ হাজারেরও কম ইংরেজরা মাড়োয়ারি আর হিন্দু ব্যাঙ্কারের সাহায্যে ২ লক্ষ সিপাইকে ভারতে শাসন করার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মানুষের থেকে সুদে পয়সা নেওয়া এক ব্যাবসায়ি জগত শেঠ এই গোটা কাহিনীর মুখ্য চরিত্র। উইলিয়াম বলেন, ভারতে আজও মীর জাফরকে গদ্দার বলা হয়, কিন্তু সে জগত শেঠ এর হাতে কাঠপুতুল ছিল মাত্র। উইলিয়াম কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ’র ইতিহাস আবারও লেখার ভাবনা নিয়ে কি আপনি সহমত? তখন উনি জানায় হ্যাঁ আমি সহমত।

উইলিয়াম বলেন, ইতিহাস আবারও লেখার জন্য আমি অমিত শাহ এর সাথে সহমত। আমি মানি যে, প্রতিটি জেনারেশন তাঁদের ভাবনা নিয়ে ইতিহাস লিখুক। আমার লেখা বইতে একটি যায়গায় বলা হয়েছে যে, এক সময় এমনও এসেছিল যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার রাস্তায় ছিল। প্রায় ৩০ টি ব্যাঙ্কের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছিল। কোম্পানি বেল আউট প্যাকেজ পেয়ে গেছিল। কিন্তু এটা নিয়ে কেউ কোন মন্তব্য করেনি।

তখনকার জেনারেশন এটা আগে কোনদিনও হতে দেখেনি। এটা অনেকটা ২০০৮ থেকে ২০০৯ এর আর্থিক সঙ্কটের সময়ের মতো। আজ আমরা সেই দিন মনে করে সাবধান হতে পারি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থান ঠিক এমনই ছিল, যেমন আজ সরকার কোন কোম্পানিকে ডুবে যাওয়ার থেকে বাঁচাতে বেল আউট প্যাকেজ ঘোষণা করে।

you're currently offline