Press "Enter" to skip to content

বড় খবরঃ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির গ্র্যান্ড পরিকল্পনা ! রথযাত্রায় আসবেন নরেন্দ্র মোদী থেকে যোগী আদিত্যানাথ।

সামনের বছর নির্বাচন। সেই নির্বাচন কে মাথায় রেখে বিজেপি সমস্ত রাজ্যে তাদের প্রচারে জোর দিতে তৈরি। কিন্তু দেশের অন্যসব রাজ্যের থেকেও এবার বেশি জোর দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গতে। এমটাই ঠিক করা হয়েছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। কারন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনেপ্রানে চাই পশ্চিমবঙ্গতে তারা ক্ষমতায় আসুক। কারন এতদিন যে উন্নয়ন থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসী বঞ্চিত ছিল সেই উন্নয়নের ভাগ যাতে তারা পায়। সেই জন্যই নেতাজী, স্বামীজির জন্মভূমি বাংলাতে বিজেপি গড়তে খুবই আগ্রহী। সেই কারনেই পশ্চিমবঙ্গকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবার লোকসভা নির্বাচনে।

সেই লক্ষ্যে দেরি না করে বিজেপি এই ডিসেম্বর মাস থেকেই মাঠে নেমে পড়তে চান লোকসভার প্রচারে। সেই লক্ষ্যে বিজেপি এবার প্রচারের জন্য রথযাত্রা করবেন রাজ্যের তিন প্রান্ত থেকে। সেই সব রথগুলি কলকাতাতে এসে মিলিত হবে। তারপর আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজি বক্তৃতা েন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের এক সমাবেশে।

বিজেপি তাদের প্রথম রথযাত্রা শুরু করবে ৫ ডিসেম্বর তারাপীঠ থেকে। কোচবিহারের রাসমেলা মাঠ থেকে বিজেপি দ্বিতীয় রথযাত্রা শুরু হবে ৭ ডিসেম্বর। এবং বিজেপি শেষ তথা তৃতীয় রথযাত্রা হবে ৯ ডিসেম্বর পবিত্রস্থান গঙ্গাসাগর থেকে। এই তিনটি রথযাত্রা শুরু করার জন্য রাজ্যে আসবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এমন খবরই পাওয়া যাচ্ছে রাজ্য বিজেপির তরফে। রাজ্যের হাজার হাজার কিমি পথ অতিক্রম করে দেড় মাস পরে সেই রথগুলি এসে পৌঁছাবে কলকাতাতে। অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ সেই রথগুলি কলকাতায় আসবে। তারপর বিজেপির তরফে করা হবে বিগ্রেড সমাবেশ।

এই রথযাত্রা রাজ্যের মোট ৪২ টি লোকসভা এলাকাভুক্ত সমস্ত জায়গা ছুঁয়ে যাবে। বিজেপির বাঘাবাঘা নেতানেত্রীরা এই কর্মসূচিতে আমাদের রাজ্যে আসবেন। জানা গিয়েছে যে, রাজ্যে আসবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, ের মুখ্যমন্ত্রী তথা হিন্দুত্বের পোষ্টার বয় যোগী আদিত্যনাথ জি থেকে শুরু করে ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, দেবেন্দ্র ফড়নবিশরা যিনি হলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এনারা সকলেই এই কর্মসূচিতে বাংলায় আসবেন।

কলকাতামুখী বিজেপির এই রথগুলি আসার আগে আসারপথে রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে বিভিন্ন সভা করার মধ্যে দিয়ে প্রচার করবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে যেসমস্ত এলাকায় বিজেপি সংগঠন কিছটা কমজোর সেই সমস্ত এলাকায় বিজেপি তাদের শক্তি বাড়িয়ে ফেলবে।

আপনাদের জানিয়ে রাখি যে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির এই ভাবে রথযাত্রা করে প্রচার করার মাধ্যম নতুন কিছু নয়। এটা অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে নতুন হতে পারে কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি এর আগে এরকম রথযাত্রা করে প্রচার অনেকবার করেছেন এবং যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছেন। তাই লোকসভা নির্বাচনের আগে এইরকম হাতিয়ার বিজেপি প্রয়োগ করে বাংলায় বাজিমাত করতে চাইছেন।

অমিত শাহ জি এবার লোকসভা ভোটে বাংলায় ২২ টি সিট পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যকে আরও মজবুত করতেই বিজেপির নুতন রণকৌশল ‘লুক ইস্ট’ আওতাভুক্ত করতে চাইছেন বাংলাকে। এই লুক ইস্ট এর সাহায্যে দেশের উত্তর-পূর্ব রাজ্য গুলিতে আসন সংখ্যা বাড়াতে চাইছেন গেরুয়া শিবির। সেই জন্যই পশ্চিমবাংলায় বিজেপির নুতন কর্মসূচি হতে চলেছে রথযাত্রা, সেই রথযাত্রা কে সাফল্যমণ্ডিত করতে কেন্দ্রীয় বিজেপির অনেক নেতামন্ত্রী প্রায়ই বাংলায় আসছেন এবং রাত কাটাচ্ছেন। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে এবার অরবিন্দ মেননকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলার সংঠনকে আরও চাঙ্গা করতে তুলতে।

এককথায় এটাই বলা যায় যে, এবার লোকসভা ভোটে বাংলায় রথযাত্রা করে সেই রথযাত্রায় বিজেপির তাবড় তাবড় নেতাদের নিয়ে এসে বাংলায় বাজিমাত করতে চান বিজেপি। কারন বাংলাকে এবার কোনো ভাবেই হাতছাড়া করতে চান না বিজেপি শিবির।
#অগ্নিপুত্র